Monday, April 22, 2024

ফিজিওথেরাপি ইজ এ মেডিসিন ফর টুডে এন্ড টুমোরো ট্রিটমেন্ট - বি পি আর সি

 

ফিজিওথেরাপি ইজ এ মেডিসিন ফর টুডে এন্ড টুমোরো ট্রিটমেন্ট

বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে সাধিত হয়েছে ব্যাপক বিল্পব। আর এ বিল্পলের ফলে আজ চিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের হাতের নাগালে। আর এ চিকিৎসা বিজ্ঞানে মেডিকেল ও ডেন্টালের ন্যায় নতুন  একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা বা শাখা হচ্ছে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা।   ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা  আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি সর্বাধুনিক শাখা। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ছাড়া আজ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অসম্পুর্ন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন কোন উপশাখা নেই যেখানে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ভুমিকা নেই।

ফিজিওথেরাপি  চিকিৎসা  আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি সর্বাধুনিক শাখা। ফিজিওথেরাপি  চিকিৎসা  বিজ্ঞান ভিত্তিক, আধুনিক, মান-সম্মত, পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া বিহীন, অটো –ইমিউন প্রসেস যুক্ত, অটো-হিলিং প্রসেস সমৃব্দ একটি সর্বাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা।

আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় একজন ফিজিওথেরাপি কনসালটেন্ট রোগীর রোগের অবস্থার উপর ভিত্তি করে মেডিসিনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, থারমোথেরাপি বা আধুনিক মেশীনারীজ, এ্যাসিসটিভ ডিভাইছ এবং রোগ ভিত্তিক এ্যাডভাইছ বা উপদেশের মাধ্যমে চিকিৎসা করে থাকেন।

ফিজিওথেরাপি  জনিত সমস্যায় আক্রান্ত একজন রোগীর ফিজিওথেরাপি  কনসালটেন্সি করবেন একজন ফিজিওথেরাপি কনসালটেন্ট। একজন ফিজিওথেরাপি কনসালটেন্ট হওয়ার জন্য প্রয়োজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার উপর ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি কমপক্ষে এবং পাশাপাশি প্রয়োজন নুন্যতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা। একজন ফিজিওথেরাপি রোগীর চিকিৎসা প্রদান করবেন একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক (ফিজিওথেরাপি অফিসার)। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের যোগ্যতা হতে হবে নৃন্যতম ৫ বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অব ফিজিওথেরাপি (বি পি টি) কোর্স সম্পন্ন কারী । একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসককে সহায়তা করবেন একজন ফিজিওথেরাপি এ্যাসিসটেন্ট যার যোগ্যতা হতে হবে তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ফিজিওথেরাপি (ডি পি টি) কোর্স  সম্পন্নকারী। কেননা একজন মেডিকেল কনসালটেন্ট এর সাথে কাজ করে একজন মেডিকেল অফিসার ( এম বি বি এস) এবং একজন মেডিকেল অফিসারকে সহায়তা করে একজন মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ( ডি এম এ)। তেমনিভাবে একজন ডেন্টাল কনসালটেন্ট  এর সাথে কাজ করে একজন ডেন্টার অফিসার ( বি ডি এস) এবং একজন ডেন্টাল অফিসারকে সহায়তা করে একজন ডেন্টাল এ্যাসিসটেন্ট (ডি ডি টি)। এখানে এক প্রফেশনের চিকিৎসা ব্যবস্থা অন্য প্রফেশেনের দেয়ার কোন এখতিয়ার নাই।

ফিজিওথেরাপি  চিকিৎসার উপশাখা গুলো হলঃ- * নিউরোলজিক্যাল ফিজিওথেরাপি * অর্থোপেডিকস ফিজিওথেরাপি     * স্পোর্টস ফিজিওথেরাপি * গাইনোকোলজিক্যাল ফিজিওথেরাপি * পেডিয়াট্রিক ফিজিওথেরাপি * জেরিয়াট্রিক ফিজিওথেরাপি * মাসকিউলো – স্কেলিটাল ফিজিওথেরাপি * রেসপিরেটরি ফিজিওথেরাপি * কার্ডিয়াক ফিজিওথেরাপি       *রিউমাটোলজিক্যাল ফিজিওথেরাপি * ডিজএ্যাবিলিটি ফিজিওথেরাপি * রি-হ্যাবিলিটেশন ফিজিওথেরাপি * পাবলিক হেলথ ফিজিওথেরাপি * ব্যাক পেইন এন্ড স্পাইন কেয়ার ফিজিওথেরাপি  * আই সি ইউ ফিজিওথেরাপি * সি সি ইউ ফিজিওথেরাপি * এন আই সি ইউ ফিজিওথেরাপি * ফিজিক্যাল ফিটনেস ও শারীরিক সক্ষমতায় ফিজিওথেরাপি

"ফিজিওথেরাপি আজ আগামীকালের চিকিৎসারে  জন্য একটি মেডিসিন ফিজিওথেরাপি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা বাংলাদেশে একটি ক্রমবর্ধমান পেশা। দিনে দিনে এর জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এর মূল্যায়ন, পরিকল্পনা এবং পুনর্বাসন হল ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার চাবিকাঠি।

অর্থোপেডিক, নিউরোলজি , গাইনোকোলজী,  মেডিসিন এবং সার্জারী পরবর্তী অবস্থায় যেখানে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক  উপোরোক্ত চিকিৎসক  দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলে মনে করা হয় সেখানে আরও ভাল ফলাফল পেতে এখন একটি দিনের বহু-বিষয়ক টিম পদ্ধতি অবশ্যই আবশ্যক। অর্থোপেডিক, নিউরোলজিক্যাল, গাইনোকোলজী,  মেডিসিন এবং সার্জারির পাশাপাশি তারা প্রায়শই সার্ভিকাল স্পন্ডিলোসিস, ফ্রোজেন শোল্ডার, টেনিস এলবো, কারপাল টানেল সিনড্রোম, লাম্বার স্পন্ডিলোসিস, প্রল্যাপসড ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্ক, লো ব্যাক পেইন, ব্যাক পেইন, অস্টিওআর্থ্রাইটিজ, প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস ইত্যাদির মোকাবিলা করে। বাংলাদেশে মানুষ এখন প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনের অভ্যাসের দিকে যাচ্ছে। , এইভাবে আর্থ্রাইটিসের মতো অসংক্রামক রোগকে স্বাগত জানায়। ফলস্বরূপ ফিজিওথেরাপি  চিকিৎসার চাহিদা বাড়ছে এবং প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল/ডায়াগনস্টিক সেন্টার ফিজিওথেরাপি বিভাগ খুলছে। খেলাধুলায় চোট আমাদের দেশে এখন সাধারণ ব্যাপার। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি বিভিন্ন ধরণের খেলার আঘাতগুলি  এ্যাসেসমেন্ট এবং ট্রিটমেন্ট  করেন। ফিজিওথেরাপির চিকিসার প্রশংসা করছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। প্রমাণগুলি পরামর্শ দেয় যে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে এবং পেশীবহুল ব্যাধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ; অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে এবং গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে। সরকারি খাত এখনও মূল প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফিজিওথেরাপি সেবা চালু না করায় দরিদ্র মানুষ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি বিভাগ স্থাপন করা সময়ের দাবি। যত্নের মান প্রদানের জন্য পরিষেবার মান বজায় রাখতে হবে এবং এই চিকিৎসকদের প্রতি অবিলম্বে অসদাচরণ বন্ধ করা প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের দেশে নিত্যদিনের ঘটনা এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। ফিজিওথেরাপি অক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যে পুনর্বাসনের মাধ্যমে মূল ভূমিকা পালন করতে পারে। কেননা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার একটি মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীকে পুনর্বাসন করা ।

অর্থোপেডিক, নিউরোলজি , গাইনোকোলজী,  মেডিসিন , সার্জারী এবং ফিজিওথেরাপি পরস্পর সম্পর্কিত এবং পরস্পর নির্ভরশীল। কেউ একা ফলপ্রসূ ফলাফল দেখাতে পারে না। এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, আমরা যদি সক্রিয় মানুষ পেতে চাই, তাহলে ব্যথামুক্ত জীবন, সুস্থ চলাফেরা, এবং উন্নত স্বাস্থ্যের যত্ন-ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা আবশ্যক। সারা বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার সহজলভ্যতা সামর্থ্যের বিষয়ে নীতিনির্ধারক এবং তহবিল সংস্থার এগিয়ে আসা উচিত।

কেননা মানব দেহে এমন অনেক স্ট্রাকচার আছে যাদের কোন ব্লাড সারকুলেশন নেই। ফলে মেডিসিন ঔ সমস্ত জায়গায় পৌছাতে পারে না।  কোন জয়েন্ট বা জোড়ার মুভমেন্ট শক্ত হয়ে গেলে মেডিসিন ব্যথা কমাতে পারে কিন্তু মুভমেন্ট ফ্রি করতে পারে না। রোগীর  ব্যালেন্স ও কো-অরডিনিশন কমে গেলে রোগীকে স্পেছিফিক এক্সারসাইজ এর মাধ্যমে তার ব্যালেন্স ও কো-অরডিনিশন রি-এডুকেট করতে হবে। এটি ঔষধ বা মেডিসিনের মাধ্যমে ভাল করার রোগ নয়। এছ্ড়াও অনেক রোগ রয়েছে যার একমাএ ঔষধ চচ্ছে একমাএ উপদেশ।  

সুতরাং একটি সমন্বিত মেডিসিন যার উচিত মেডিসিনের  পাশাপাশি রোগীদেরকে আরও ভালো করা, উপসর্গগুলিকে উপশম করা এবং রোগ নিরাময় করা - অথবা এই সবগুলির সংমিশ্রণ - আমাদের সুস্থ করার জন্য। প্রচলিত আধুনিক মেডিসিনে  সাধারণত ওষুধের চিকিৎসা বা সার্জারি, কাউন্সেলিং বা মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা, বা সুস্থতা বজায় রাখার জন্য জীবনধারার ব্যবস্থার ব্যবহার জড়িত থাকে। কিন্তু একটি রোগের শতভাগ  উপশম সম্ভব নয়।

এক্ষে্েএ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা হচ্ছে একটি সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার  উপকরন হচ্ছে

·         মেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা

·         থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ বা রোগ ভিত্তিক এক্সারসাইজ এর মাধ্যমে চিকিৎসা

·         থারমোথেরাপি বা আধুনিক মেশিনারীজ এর মাধ্যমে চিকিৎসা

·         এ্রাসিসটিভ ডিভাইছ বা বহকারী উপকরন এর মাধ্যমে চিকিৎসা

·         এ্যাডভাইছ বা রোগ ভিত্তিক উপদেশ এর মাধ্যমে চিকিৎসা

সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা হল চিকিৎসা পরিচর্যার একটি পদ্ধতি যা প্রচলিত ওষুধকে অনুশীলনের সাথে একত্রিত করে যা বিজ্ঞানের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে নিরাপদ এবং কার্যকর। এই পদ্ধতিটি প্রায়শই রোগীর পছন্দের উপর জোর দেয় এবং এটি স্বাস্থ্যের মানসিক, শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক দিকগুলিকে সম্বোধন করার চেষ্টা করে।

 

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আবু সালেহ আলমগীর

বি পি টি, এম ডি, এম পি এইচ. এম ডি এম আর, পি এইচ ডি

ব্যাক-পেইন ও পাবলিক হেল্থ এবং ডিজএ্রাবিলিটি ও রি-হ্যাবিবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ

সিনিয়র ফিজিওথেরাপি মেডিসিন কনসালটেন্ট

কনসালটেন্ট ফিজিওথেরাপিস্ট ও বিভাগীয় প্রধান

ফিজিওথেরাপি মেডিসিন এন্ড রি-হ্যাবিলিটেশন বিভাগ

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিল ঢাকা

মোবাইলঃ০১৬৪১৫৭৬৭৮৭, ০১৭৩৮৩৯৪৩০৯

Friday, April 5, 2024

বেল্স পালসি বা মুখ বেঁকে যাওয়ায় ফিজিওথেরাপি মেডিসিন এন্ড রি-হ্যাবিলিটেশন চিকিৎসা - বি পি আর সি

 

বেলস পালসি বা মুখ বেঁকে যাওয়ায় ফিজিওথেরাপি মেডিসিন এন্ড রি-হ্যাবিলিটেশন চিকিৎসা    

 

বেলস পালসি মানে হল মুখের পেশির প্যারালাইসিস। বেলস পালসি হলো এমন একটি অবস্থা, যা মুখের পেশীগুলোর অস্থায়ী দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত ঘটায়। মস্তিস্ক থেকে আসা নম্বর ক্রেনিয়াল নার্ভের নাম ফেসিয়াল নার্ভ, যা মুখের পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি আংশিক বা সম্পূর্ণ প্যারালাইজড হয়ে গেলে তাকে ফেসিয়াল প্যারালাইসিস বা বেলস পালসি বলে। যেকোনো বয়সের নারী-পুরুষ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এটি সাধারনত ভাইরাসের আক্রমনের কারনে হয়ে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে রোগের কারণ এখনও অজানা। এই রোগের বা ভাইরাসের প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কম থাকে। আবার এই রোগের চিকিৎসা পদ্ধতিও খুবই সহজ। ফিজিওথেরাপিই হচ্ছে এর প্রধান চিকিৎসা। স্কটিশ অ্যানাটমিস্ট চার্লস বেলের নামে এই স্বাস্থ্য সংকটটির নামকরণ করা হয়েছে।

বেলস পালসি কী?

বেল্স পালসি হলো মুখের প্যারালাইসিস। বেল্স পালসি দুই ধরনের হয়। 

. মুখের এক পাশ কপাল থেকে শুরু করে একদম থুতনি পর্যন্ত যদি প্যারালাইজড হয়ে গেলে এটাকে লোয়ার মোটর নিউরন টাইপ অব বেল্স পালসি বলে।


. কপালের অংশ বাদে চোখ থেকে নিচের অংশ প্যারালাইজড হলে সেটাকে আপার মোটর নিউরন টাইপ অব বেল্স পালসি বলে। 

সহজ ভাষায় মুখের যেকোনো এক সাইডের বা পাশের প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়াই বেলস পালসি। এর জেনেটিক কোনো কারণ নেই এবং যে কোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে তরুণ বয়সে বেশি হয়। পুরুষ, মহিলা, এমনকি শিশুদেরও রোগ হতে পারে।

বেলস পালসি  কেন হয়

এই রোগটি হওয়ার মূল কারণ অজানা। কিন্তু তথ্য প্রমাণ আছে যে, কিছু কিছু ভাইরাসের কারণে এই বেলস পালসি হয়। যেমন, হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের হার্পিস জোস্টার ভাইরাস দিয়ে বেলস পালসি হয়। ছাড়া সারকোডোসিস, লাইম ডিজিজের কারণেও বেলস পালসি হতে পারে। 

বেলস পালসি ভাইরাস কখন হয়

সিজনাল পরিবর্তন হলে তখন এই ভাইরাস হয়। শীতের পরে গরম অথবা গরমের পর শীতকালে ভাইরাসের বংশ বৃদ্ধির মোক্ষম সময়। বংশ বৃদ্ধি বেশি হলে তখন ভাইরাসের আক্রমণও বেশি হবে। এই সময়গুলোতে বেলস পালসি বেশি হয়। আবার অন্য সময়গুলোতেও হতে পারে। 

বেলস পালসি রোগীর পরিসংখ্যান  

সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে আমাদের ফিজিওথেরাপি জার্নাল বা বই পত্রে দেখা যায়, প্রতি লাখে ২০ জন লোক এই রোগে আক্রান্ত হয়। শতকরা হিসাব করলে দশমিক ০২ শতাংশ হতে পারে। 

বেলস পালসি রোগের শঙ্কা

অসুখ বড় না হলেও এটা ঘাবরানোর মতোই একটি রোগ। কারণ সুস্থ স্বাভাবিক একজন লোক হঠাৎ করে সকালে উঠে দেখেন নিজের মুখ এক দিকে বাঁকা হয়ে গেছে। চোখ একটা বন্ধ হচ্ছে, একটা হচ্ছে না। কুলি করতে গেলে কুলির পানি একদিকে পড়ে যাচ্ছে। কথা বলতে গেলে তোতলানো শুরু হয়। খাবার খেতে গেলে খাবার মুথের একপাশে পড়ে থাকে। এতে রোগী ভড়কে যান। মনে করেন স্ট্রোক হয়েছে। বেলস পালসিতে রোগীসহ তার আশপাশের মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে যায়। অসুখ ছোট হলেও উপসর্গ দেখেই সবাই ভয় পেয়ে যায়। 

বেলস পালসি রোগের উপসর্গ

মুখ যেকোনো একদিকে বাঁকা হয়ে যাবে। ডান দিকে বেলস পালসি হলে মুখ বাম দিকে এবং বাম দিকে হলে ডান দিকে বাঁকা হবে। এক চোখ বন্ধ হলে অন্যটি বন্ধ হবে না। খাবার খেতে গেলে বেলস পালসিতে আক্রান্ত পাশের খাবার আটকে থাকবে। খাবার চিবিয়ে খেতে পারবে না, খাবার আটকে যাবে। কুলি করতে গেলে মুখের একপাশ দিয়ে পানি বের হয়ে যাবে। কথা বলতে গেলে তোতলানো শুরু হবে।নাক কুচকাতে পারবে না।

ফেসিয়াল নার্ভ

ফেসিয়াল নার্ভের একটা কোষ আছে। এটা কোথা থেকে উৎপত্তি? আমাদের ব্রেইনে ব্রেইন স্টেম নামে একটা জায়গা আছে। ব্রেইন স্টেমের একটা অংশ হলো পন্স। এই পন্স থেকে ফেসিয়াল নার্ভের উৎপত্তি হয়। ফেসিয়াল নার্ভ আক্রান্ত হলে কখনও কখনও একটা লোক কানে বেশি শুনতে পায়। এটাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় হাইপার এ্যাকিউসিস। যেহেতু ফেসিয়াল নার্ভের সঙ্গে কানের নার্ভের সংযুক্তি আছে, তাই ফেসিয়াল নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে কানের নার্ভটাও আক্রান্ত হয়। আর তখন বেশি বেশি শব্দ শোনা যায়। ফেসিয়াল নার্ভের কাজ হলো আমাদের জিহ্বাকে সাপ্লাই দেয়া। দেখা যায়, জিহ্বার যে পাশের নার্ভ আক্রান্ত হয়েছে সেই পাশের জিহ্বায় স্বাদ একটু কম হয়।

বেলস পালসি রোগ নির্ণয় 

একদম ক্লিনিক্যালি নির্ণয় করা হয়। রোগী দেখে, রোগীর ইতিহাস জেনে নির্ণয় করা হয়। শুধু মুখই আক্রান্ত হয়েছে নাকি, হাত-পায়ে কোথাও দুর্বলতা আছে। কারণ হাত পায়ে দুর্বলতা থাকলে তখন আর বেলস পালসি থাকবে না, এটা স্ট্রোকের দিকে চলে যাবে। এরপর আমরা পরীক্ষা করি অর্থাৎ রোগীকে বলি চোখ বন্ধ করেন, কপাল উপরের দিকে কুচকান, দাঁত দেখান। এসব দেখে আমরা বুঝি এটা বেলস পালসি কিনা। এর জন্য কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার হয় না। যদি দেখা যায়, রোগীর এর সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে, তখন আমরা রোগীকে পরীক্ষা করি। ছাড়া বেলস পালসি নির্ণয় করতে পরীক্ষা লাগে না। যাদের ডায়াবেটিস থাকে, উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাদের বেলস পালসি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। জন্য বেলস পালসি রোগীদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ আছে কিনাএসব দেখে নিই।

বেলস পালসি রোগের চিকিৎসা

রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসা পদ্ধতি খুবই সহজ। একটা হলো, মেডিকেল চিকিৎসা আরেকটা হলো ফিজিওথেরাপি। ফেসিয়াল নার্ভ আক্রান্ত হলে এই রোগ হয়। এতে ফেসিয়াল নার্ভ ফুলে যায়। এই ফুলা কমানোর জন্য স্বল্প মেয়াদি হাই ডোজের স্টেরয়েড দেওয়া হয়। এতে দ্রুত ফেসিয়াল নার্ভের ফুলা কমে যায়। ফলে তার উপসর্গও দ্রুত কমতে থাকে। আমরা ইদানীং এন্টিভাইরাল ড্রাগও ব্যবহার করে থাকি। যদিও এটা নিয়ে নানান কথা আছে। কিন্তু আমাদের পর্যবেক্ষণ হলো, এন্টিভাইরাল ড্রাগ কাজ করে। এছাড়া প্রিগাবাপেনটিন ঔষধ এবং নিউরোভিটামিন জাতীয় ঔষধ দিতে হবে , নার্ভের কার্য়কারিতা দ্রুত ঠিক করার জন্য। এছাড়া মাল্টি ভিটামিন ঔষধ প্রয়োজনে দিতে হবে। এটাও স্বল্প মেয়াদের জন্য দেওয়া হয়। তবে ওষুধের চেয়ে মূল চিকিৎসা হচ্ছে ফিজিওথেরাপি। ফিজিওথেরাপি দিলে আর স্টেরয়েড স্বল্প মেয়াদি কোর্স খেলে রোগী দুই তিন সপ্তাহ বা এক মাসের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে একটু সময় বেশি লাগে। তরুণরা দ্রুত সুস্থ হয়। বয়স্কদের সুস্থ হতে সময় লাগে। ৯০ শতাংশ পুরোপুরি সুস্থ হয়। ১০ শতাংশের ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা থাকে। যেমন, মুখ কিছুটা বাঁকা থেকে যেতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ফিজিওথেরাপি দিতে পারলে সে বাঁকাটও ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। সঠিক চিকিৎসা পেতে হলে অবশ্যই ফিজিওথেরাপি কনসালটেন্টের কাছে আপনাকে যেতে হবে।

বেলস পালসি রোগের প্রতিকার

এই ভাইরাসের প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেই। ভাইরাস তো বাতাসে ঘুরে, এটাকে কি দিয়ে ঠেকাবেন? প্রতিকার করার কোনোই সুযোগ নেই। যার হবে হবেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বলা আছে, ডায়াবেটিস প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। যাদের একটুতেই সর্দি কাশি হয়, তাদের ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি একটু হলেও কম থাকে। এছাড়া বেশী সময় এসির মধ্যে থাকা পরিহার করা। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খাওয়া পরিহার করা। বেশী সময় ফ্যানের নিচে থাকাটা পরিহার করা। এই রোগে একবার আক্রান্ত হলে সুস্থ হওয়ার পর জীবন যাপন স্বাভাবিকই থাকবে। পরিবর্তন কোনো দরকার নেই। শুধু ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।

বেলস পালসি রোগের জটিলতা

শতাংশ মানুষের বেলস পালসির কিছু জটিলতা হতে পারে। মুখের এক অংশ কিছুটা দুর্বল থাকে। অনেক সময় ফেসিয়াল নার্ভের কোষ বেলস পালসিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে নার্ভ ঘুরে চোখের দিকে যেতে পারে। তখন খাবার খেলে নার্ভ কাজ করে চোখে অর্থাৎ দেখা যায়, মুখ দিয়ে খাবার খাচ্ছে আর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। এটাকে বলা হয় ক্রোকোডাইল আই। এমনটা কারো কারো ক্ষেত্রে ঘটতে পারে।

 

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আবু সালেহ আলমগীর

বি পি টি, এম ডি, এম পি এইচ, এম ডি এম আর, পি এইচ ডি

কনসালটেন্ট ফিজিওথেরাপিস্ট ও বিভাগীয় প্রধান

ফিজিওথেরাপি মেডিসিন এন্ড রি-হ্যাবিলিটেশন বিভাগ

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, মতিঝিল, ঢাকা

মোবাইলঃ ০১৬৪১৫৭৬৭৮৭, ০১৭৩৮৩৯৪৩০৯

 

রোগ নিয়ে বিভিন্ন কথা ও আলাপ এবং আলোচনা - বি পি আর সি হেল্থ সার্ভিস - প্রফেসর ডাঃ মোঃ আবু সালেহ আলমগীর। বি পি টি, এম ডি, এম পি এইচ, এম ডি এম আর, পি এইচ ডি।

রোগ নিয়ে বিভিন্ন কথা ও আলাপ এবং আলোচনা                                                                                               ...