Wednesday, May 21, 2025

১ মাসেই ৫ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট জানেন কি? বি পি আর সি হেল্থ সার্ভিস



ওজন কিন্তু চাইলেই তো আর হবে না। তার জন্য চাই প্রচেষ্টা আর উদ্যোগ। আর আপনাদের সেই উদ্যোগকে আর এক ধাপ এগিয়ে নিতেই আজকের এই ডায়েট চার্ট। আজকে আপনাদের জন্য এমন একটি ডায়েট চার্ট দেয়া হলো যার সাহায্যে ১ মাসেই ৫ কেজি পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব এবং খুব সহজেই পরিমিত খাবার গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ্য গতিতে এই ওজন কমানো সম্ভব। আর সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে প্রতিদিন আপনাকে অবশ্যই ১২৮০ ক্যালরি, তার মানে মাসে ৩৮,৪০০ ক্যালরি বার্ণ করতে হবে এবং ডায়েট চার্টে এমন সব খাবার থাকতে হবে যা মোটামুটি ১৫০০ ক্যালরির হতে হবে।

১ মাসেই ৫ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট 

সকাল ৮:০০

১ মাসেই ৫ কেজি ওজন কমাতে সকাল ৮টার ডায়েট প্ল্যান - shajgoj.com

Sale • Day & Night Cream, Day/Night Cream, Talcum Powder

    – সেদ্ধ ডিম ১ টি সাদা অংশ (৫২ ক্যালরি)

    – এক বাটি জাম্বুরা( জুস করে বা এমনি খেতে পারেন) (৯৬ ক্যালরি)

    – ২ টি রুটি (২১০ ক্যালরি)

    – ভেজিটেবল সুপ (১৫০ ক্যালরি)

    সকাল ১১:০০

    ১ মাসেই ৫ কেজি ওজন কমাতে সকাল ১১টার ডায়েট প্ল্যান - shajgoj.com

    – এক কাপ গ্রিন টি চিনি ছাড়া (কোন ক্যালরি নেই)

    – একটি আপেল (৮১ ক্যালরি)/একটি কমলা (৮৬ ক্যালরি)

    দুপুর ২:০০

    ১ মাসেই ৫ কেজি ওজন কমাতে দুপুর ২টার ডায়েট প্ল্যান - shajgoj.com

    – ভাত ১ কাপ (২১৬ ক্যালরি) / ২ টি রুটি (২১০ ক্যালরি)

    – ১ বাটি মিক্স্ড ভেজিটেবল (৮৫ ক্যালরি)

    – ১ কাপ ডাল (২২০ ক্যালরি) / এক টুকরা মাছ (১৪২ ক্যালরি)

    বিকেল ৫:০০

    ১ মাসেই ৫ কেজি ওজন কমাতে বিকেল ৫ টায় ডায়েট গ্রীন টি - shajgoj.com

    – এক কাপ গ্রিন টি (চিনি ছাড়া)

    – ২ টি ক্রিম ছাড়া বিস্কিট (৩০ ক্যালরি)

    সন্ধ্যা ৭:০০

     

    সন্ধ্যা ৭টায় খাবার ডাব - shajgoj.com

    – ডাবের পানি (৪৬ ক্যালরি)

    অথবা ৮-১০ টি পেস্তা বাদাম (৭০ক্যালরি)

    রাত ৮:৩০

    রাত ৮:৩০ এর ডায়েট প্ল্যান - shajgoj.com

    – ভাত ১ কাপ (২১৬ ক্যালরি) / ২ টি রুটি (২১০ ক্যালরি)

    – ১ কাপ সালাদ (৫০ ক্যালরি)

    – ১ কাপ সবজি (৮৫ ক্যালরি) / আধা কাপ টক দই (৬৫ ক্যালরি)

    এই হলো মোটামুটি ১৫০০ ক্যালরির একটি ডায়েট চার্ট। তবে এই ডায়েট চার্ট মেনে চলার পাশাপাশি শারীরিক ব্যায়াম করা অত্যাবশ্যক। কারণ এর মাধ্যমে আপনি দেহের অতিরিক্ত ক্যালরি বার্ণ করতে পারবেন। যেকোনো ব্যায়াম ক্যালরি বার্ণ করতে সহায়ক। শুরুতে হালকা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করুন। প্রতিদিন ৪৫ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করূন। এছাড়াও ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন।

    ১ মাসেই ৫ কেজি ওজন কমানোর জন্য কিছু টিপস

    ১. প্রতিদিন সকাল, দুপুর এবং রাতের খাবারের পূর্বে ২ গ্লাস ঠান্ডা পানি পান করুন।

    ২. সকালে খালি পেটে এক টুকরা লেবু এবং আধা চা চমচ মধু হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে পান করুন।

    ৩. সবজির লিস্টে ব্রোকলি, লেটুস, পালং শাক এবং অন্যন্য সবুজ সবজি রাখার চেষ্টা করুন।

    ৪. রেগুলার সালাদের সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এটি ক্যালরি বার্ণ করতে খুবই উপকারী।

    ৫. রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে খেয়ে ফেলুন।

    আশা করি পোস্টটি দ্বারা আপনারা উপকৃত হবেন।

    সতর্কতা: দ্রুত ওজন কমানোর চেয়ে আস্তে আস্তে ওজন কমানো ভাল।

    কত ক্যালরিতে ১ কেজি ওজন বাড়ে


     ওজন বাড়ানো বা কমানো সবসময়ই ক্যালরি গ্রহণ এবং ক্যালরি খরচের মধ্যকার ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে। অনেকেই মনে করেন ওজন বাড়ানোর প্রক্রিয়া খুবই জটিল, কিন্তু এটি মূলত আপনার খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনন্দিন কার্যকলাপের সঙ্গে  জড়িত।

    ওজন বৃদ্ধি অনেকের জন্য একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয়, বিশেষ করে যারা পাতলা শরীর থেকে কিছুটা সুগঠিত হতে চান। ১ কেজি ওজন বাড়ানোর জন্য আপনার শরীরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অতিরিক্ত ক্যালরি সরবরাহ করা জরুরী। তবে শুধু বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলেই চলবে না, সেই ক্যালরি সঠিক পুষ্টিকর খাবার থেকেও আসা উচিত। 

    আজকের এই আর্টিকেলে  ১ কেজি ওজন বাড়াতে কত ক্যালরি প্রয়োজন এবং এটি কিভাবে স্বাস্থ্যকর  ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে ওজন বাড়ানো যায় তা আলোচনা করব।

    কত ক্যালরিতে ১ কেজি ওজন বাড়ে?

    ১ কেজি ওজন বাড়ানোর জন্য শরীরে প্রায় ৭,৭০০ ক্যালরি বেশি সরবরাহ করা উচিৎ। এই ক্যালরি গ্রহণ  দৈনিক আপনার প্রয়োজনীয় ক্যালরির চেয়ে অতিরিক্ত হতে হবে। উদাহরণস্বরূপ:

    • যদি আপনার দৈনিক ক্যালরি প্রয়োজন হয় ২,০০০, তবে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫০০ ক্যালরি গ্রহণ করলে এক সপ্তাহে প্রায় ৩,৫০০ ক্যালরি যোগ হবে।
    • এর মানে, ১ কেজি ওজন বাড়াতে ২-৩ সপ্তাহও লাগতে পারে। 

     

    ক্যালরি বৃদ্ধির কৌশল

    • প্রতিদিন খাবারের পরিমাণ বাড়ানো।
    • স্বাস্থ্যকর ও উচ্চ ক্যালরি খাবার খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা।
    • ঘন ঘন খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা, দিনে ৫-৬ বার। 

     

    ওজন বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার

    ওজন বাড়ানোর জন্য প্রাকৃতিক এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এটি শুধু ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে না, বরং শরীরকে সুস্থ এবং শক্তিশালী রাখে। এখানে কিছু সেরা খাবারের তালিকা দেওয়া হলো যা ওজন বাড়াতে কার্যকর এবং স্বাস্থ্যকর।

    ১. পুষ্টিকর শর্করা (Carbohydrates)

    শর্করা আমাদের শরীরে শক্তি সরবরাহের প্রধান উৎস এবং এটি ওজন বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    • ভাত: ভাত হলো সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী একটি শর্করা সমৃদ্ধ খাবার। এটি ক্যালরি এবং কার্বোহাইড্রেটের একটি চমৎকার উৎস, যা ওজন বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
    • আলু এবং মিষ্টি আলু: আলু এবং মিষ্টি আলু পুষ্টিকর শর্করা এবং আঁশ সরবরাহ করে। এগুলো দ্রুত ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। 
    • ওটমিল: ওটমিল প্রাকৃতিক শর্করা এবং ফাইবারে সমৃদ্ধ। এটি ধীরে ধীরে হজম হয়, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে।

    ২. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার

    প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে, যা মাংসপেশি তৈরি এবং মেরামতে সাহায্য করে।

    • ডিম: সুষম প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের চমৎকার উৎস।
    • মুরগির মাংস: চর্বি কম এবং প্রোটিন বেশি।
    • মাছ (স্যালমন, টুনা): ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং উচ্চ প্রোটিন সরবরাহ করে।
    • দুধ: প্রাকৃতিক প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের উৎস।

    ৩. চর্বি ও স্বাস্থ্যকর তেল

    চর্বি উচ্চ ক্যালরি সরবরাহ করে এবং দ্রুত ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস হিসেবে কিছু খাবার বেশ উপকারী। যেমন ঃ 

    ৪. ফলমূল

    ফলমূল আমাদের শরীরে পুষ্টি সরবরাহ করে এবং ক্যালরি বাড়াতে সাহায্য করে। 

    • কলা: উচ্চ ক্যালরি এবং প্রাকৃতিক শর্করা সমৃদ্ধ।
    • আম: ভিটামিন ও ক্যালরিতে ভরপুর।
    • কিশমিশ এবং শুকনো খেজুর: শুকনো ফল ক্যালরি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর।

    ৫. দই এবং দুগ্ধজাত পণ্য

    ৬. প্রোটিন স্মুদি

    বাজারের প্রক্রিয়াজাত প্রোটিন শেকের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি প্রোটিন স্মুদি তৈরিক করতে পারেন।
    উদাহরণ বলা যায়: 

    • কলা + দুধ + বাদাম + চিয়া সিডের স্মুদি।
    • আম + দই + মধু। 

     

    ওজন বাড়ানোর জন্য জীবনযাপন পরিবর্তন

    খাদ্যাভ্যাস ছাড়াও আমাদের দৈনন্দিনের জীবনযাপনের  পদ্ধতি ওজন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু কার্যকর অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা ওজন বাড়তে পারি। যেমন: 

    ১. নিয়মিত ব্যায়াম

    শুধু খাওয়া নয়, ওজন বাড়ানোর জন্য সঠিক ব্যায়ামও প্রয়োজন। বিশেষত, ভারোত্তোলন বা রেসিস্ট্যান্স ব্যায়াম পেশি তৈরি করে এবং শরীরে ক্যালরি সঞ্চয় বাড়ায়।

    ২. পর্যাপ্ত ঘুম

    ঘুমের সময় শরীর ক্ষতি গ্রস্ত কোষ পুনরুদ্ধার করে  এবং পেশি তৈরি করে। এই সময়ে শরীর তার কাজকর্ম সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারে এবং ওজন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় রমোনের ক্ষরণ ঘটায়। এজন্য প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। 

    ৩. স্ট্রেস কমান

    মানসিক চাপ শরীরের বিপাক ক্রিয়া কমিয়ে দেয়, যা ওজন বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে। স্ট্রেস কমানোর জন্য মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম করতে পারেন।

    ৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

    পর্যাপ্ত পানি শরীরের বিপাক ক্রিয়া সঠিক রাখে এবং খাবার হজমে সাহায্য করে। পানি শরীরের মধ্যে পুষ্টি পরিবহন এবং টক্সিন দূরীকরণেও সাহায্য করে, যা স্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। 

     

    ওজন বাড়ানোর জন্য খাবার পরিকল্পনা

    সঠিক পরিকল্পনা অনুসরণ করলে ওজন দ্রুত এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে বাড়ানো সম্ভব।

    একটি দিনের খাবারের উদাহরণ:

    সকালের খাবার:

    • ১ কাপ ওটস + দুধ + মধু + কলা।
    • ১টি সেদ্ধ ডিম।

    মধ্য সকালের খাবার:

    • ১ গ্লাস প্রোটিন স্মুদি।
    • কিশমিশ এবং শুকনো খেজুর।

    দুপুরের খাবার:

    • ভাত + মুরগির মাংস + সবজি।
    • ১ কাপ দই।

    বিকালের খাবার:

    • পনির স্যান্ডউইচ।
    • বাদাম এবং আখরোট।

    রাতের খাবার:

    • রুটি + মাছ বা মুরগি।
    • সবজি।

    ঘুমানোর আগে:

    • ১ গ্লাস দুধ + মধু।

     

    সতর্কতা 

    স্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এই বিষয়গুলো অবশ্যই মেনে চলুন: 

    • প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন: জাংক ফুড বা অতিরিক্ত মিষ্টি ওজন বাড়ালেও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।
    • চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: যদি ওজন বৃদ্ধিতে সমস্যা হয়, তবে একজন ডায়েটিশিয়ান বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
    • সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন: বেশি খাওয়ার পরিবর্তে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন।

     

    ওজন বাড়ানো যতটা কঠিন মনে হয়, ততটা কঠিন নয়। সঠিক ক্যালরি গ্রহণ এবং নিয়মিত রুটিন মেনে চললে আপনি স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়াতে পারবেন। ১ কেজি ওজন বাড়াতে ৭,৭০০ অতিরিক্ত ক্যালরি প্রয়োজন, যা ধীরে ধীরে সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে ওজন বৃদ্ধি শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং দীর্ঘস্থায়ী। প্রতিদিন পরিকল্পিত খাবার খেয়ে এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলে আপনার কাঙ্ক্ষিত ওজন অর্জন করা সম্ভব।

    এই তথ্য জানার পর আপনি এখন আপনার খাদ্য পরিকল্পনা আরও সহজে করতে পারবেন। মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়ানো মানে শুধু ফ্যাট জমা করা নয়, বরং শক্তিশালী এবং ফিট শরীর গঠন করা।

    আপনার ওজন বাড়ানোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে ভুলবেন না! আরও এ ধরনের স্বাস্থ্যকর টিপস পেতে আমাদের ওয়েব সাইটের অন্যান্য ব্লগ গুলো পড়তে পারেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন এই তথ্য। 

    রোগ নিয়ে বিভিন্ন কথা ও আলাপ এবং আলোচনা - বি পি আর সি হেল্থ সার্ভিস - প্রফেসর ডাঃ মোঃ আবু সালেহ আলমগীর। বি পি টি, এম ডি, এম পি এইচ, এম ডি এম আর, পি এইচ ডি।

    রোগ নিয়ে বিভিন্ন কথা ও আলাপ এবং আলোচনা                                                                                               ...